নিজস্ব প্রতিবেদক।। সাভারের আশুলিয়া থানাধীন বাইপাইল এলাকায় আবাসিক হোটেলের আড়ালে দীর্ঘ দিন ধরে চলছে রমরমা দেহ ব্যবসা। বাইপাইল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন’হিমালয় গেস্ট হাউস’গেস্ট হাউস পদ্মা,গেস্ট হাউস ইউনিক,জিরানি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ডিম ল্যান্ড,পল্লী বিদ্যুৎ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন গেস্ট হাউস নিউ গোল্ডেন সিটি-কে ঘিরে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে উঠে এসেছে মুরাদ,আনোয়ার হোসেন ওরফে’হোটেল আনোয়া’-এর নাম। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই অবৈধ কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,এই গেস্ট হাউস গুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণীদের নিয়ে এসে আটকে রাখা হয়। দিনের বেলা গেস্ট হাউসের স্বাভাবিক কার্যক্রমের আড়ালে চললেও সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই পাল্টে যায় এর রূপ। বাড়তে থাকে বহিরাগতদের আনাগোনা। মাদক কেনাবেচা থেকে শুরু করে অনৈতিক সব কর্মকাণ্ডের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে এই গেস্ট হাউসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,এই অবৈধ ব্যবসার মূল কারিগর মুরাদ,আনোয়ার হোসেনের রয়েছে একটি বিশাল শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান,মুরাদ,আনোয়ারের নিজস্ব নেটওয়ার্ক খদ্দের সংগ্রহ থেকে শুরু করে তরুণীদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করে। এলাকায় তার একটি বিশাল ক্যাডার বাহিনী থাকায় কেউ এর প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। এমনকি গণমাধ্যমকর্মীরা তথ্য সংগ্রহে গেলে তাদেরও বাধার সম্মুখীন হতে হয়। জানা গেছে,এর আগে বিভিন্ন সময়ে পুলিশি অভিযানে কিছু কর্মচারী বা খদ্দের আটক হলেও মূলহোতা আনোয়ার সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান। বাইপাইল এলাকার ব্যবসায়ীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন কর্মকাণ্ড চললেও স্থায়ী কোনো সমাধান আসছে না। এতে এলাকার সামাজিক ও ধর্মীয় পরিবেশ কলুষিত হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিশোর ও তরুণদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দ্রুত এই ‘পাপের আস্তানা’ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
উক্ত বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,গেস্ট হাউসগুলোর অনুমোদন দেন জেলা প্রশাসক। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এছাড়া ইউএনও স্যারের নির্দেশনা পেলে আমরা সেখানে জোরালো অভিযান পরিচালনা করতে পারি। এলাকাবাসীর দাবি,শুধুমাত্র দায়সারা অভিযান নয়,বরং মূলহোতা আনোয়ারসহ এই চক্রের সকল সদস্যকে আইনের আওতায় এনে স্থায়ীভাবে এই অসামাজিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা হোক।
এবিডি.কম/রাজু